মুনাফা ধরে রাখতে পারছে না এশিয়ার বাজেট এয়ারলাইনস খাত

এশিয়ার সাশ্রয়ী (বাজেট) উড়োজাহাজ খাত কঠিন সময় পার করছে।

এশিয়ার সাশ্রয়ী (বাজেট) উড়োজাহাজ খাত কঠিন সময় পার করছে। ব্যয় বৃদ্ধি, তীব্র প্রতিযোগিতা ও দুর্বল চাহিদায় অঞ্চলটির অধিকাংশ বাজেট এয়ারলাইনস এখন মুনাফা ধরে রাখতে পারছে না। একসময় দ্রুত প্রবৃদ্ধির জন্য পরিচিত এ খাত এখন নানা চাপে টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

এশিয়ায় কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক জেটস্টার। এয়ারলাইনসটির এ সিদ্ধান্তকে এশিয়া অঞ্চলের সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ শিল্পের নড়বড়ে অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের আয় প্রতিবেদনে তারা লোকসান দেখাবে ৩ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার)। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মাত্র ছয় বছর মুনাফা করতে পেরেছিল জেটস্টার। এর মালিক অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস গ্রুপ।

জেটস্টার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী স্টেফানি টালি বলেন, ‘সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দরের ৩০০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলারের (২৪০ কোটি ডলার) উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ের চাপও তাদের ওপর পড়েছে। সরকার ব্যয়ের বড় অংশ বহন করলেও বিমানবন্দর ফি ও অন্যান্য চার্জ বেড়েছে, যা সব বাজেট এয়ারলাইনসকেই প্রভাবিত করছে।

জাপানভিত্তিক আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নোমুরার এয়ারলাইনসবিষয়ক বিশ্লেষক আহমাদ মাগফুর উসমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে অধিকাংশ সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ সংস্থা একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।’

জেটস্টার এশিয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছে আরো কয়েকটি এয়ারলাইন সংস্থা। হংকংয়ের এইচকে এক্সপ্রেসের চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসান হয়েছে ৫২ কোটি ৪০ লাখ হংকং ডলার (প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার)। মালয়েশিয়ার এয়ারএশিয়ার গত বছর লোকসান হয় ৪৭ কোটি ৫০ লাখ রিঙ্গিত (প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার)।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংকের বিশ্লেষক জেসন সুম বলেন, ‘পাইলটসহ শ্রম ব্যয় বাড়ায় সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো তাদের কম খরচে পরিচালনার সুযোগ হারাচ্ছে।’

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ) জানিয়েছে, চলতি বছর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের এয়ারলাইনসগুলোর গড় মুনাফার হার পৌঁছাবে ১ দশমিক ৯ শতাংশে, যেখানে বৈশ্বিক গড় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এশিয়ার উড়োজাহাজ খাত। মহামারীর পর থেকে ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং চীনের অর্থনৈতিক মন্থরতায় পর্যটক সংখ্যা কমেছে।

একই সঙ্গে বিমানবন্দরের চার্জ বৃদ্ধি, জ্বালানি ও শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়া স্বল্পমূল্যের উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও